আমি
আমার তিন নম্বর গার্লফ্রেন্ড রুবার জন্য একটা রেস্টুরেন্টে অপেক্ষা
করছি।তার একটা জিনিশ আমাকে খুব মুগ্ধ করে সেটা হলো তার বিরাট লম্বা চুল।
ঠিক দেড়টাই এসে সে এবারও আমাকে চমকে দিলো।তার টাইম সেন্স দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ।সে এসেই ব্যাগটা রেখে রেস্টুরেন্টের ওয়াশরুমে গেল।
১ মিনিট পরেই ফিরে এসে বললো, "আরেকটা রেস্টুরেন্টে চলো।" এটা বলেই সে হাঁটতে শুরু করলো আর আমি তার পিছু-পিছু হাঁটতে লাগলাম।
আরেকটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে সে আবার ওয়াশরুমে গেল আর কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বললো, "এটার ওয়াশরুম ঠিকাছে।আমরা এটাতে বসতে পারি। যে রেস্টুরেন্টের ছাড়ার জায়গায়-ই অপরিষ্কার সে রেস্টুরেন্ট কেমনে ভালো খাবার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সেটাই তো আমার মাথায় ঢুকে না!আজিব!"
আমি তার এই গুণটাতে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করার চূড়ান্ত সিধান্ত নিয়ে ফেলেছি।
রুবার সাথে আমার পরিচয় ফেসবুকে।আমি গল্প লিখতে পছন্দ করি। 'দুধ বিভ্রাট' নামে একটা রম্যগল্প আমার প্রোফাইলে পোস্ট দেওয়ার পর অনেকের মতো রুবাও আমার গল্পের তুমুল প্রশংসা করে আর কমেন্টে কথা বলতে-বলতে আমাদের বন্ধুত্ব হয়ে যায় আর তারপর প্রেম।
আজ ঘরে ঢুকেই দেখি আমার দুলাভাই আর বোন এসেছে।আমার দুলাভাই আমাকে দেখেই জিজ্ঞেস করলেন, " কিরে শালা,বিয়ে কবে করছো? তোমার ভাবী আর আমার শ্বাশুড়ি আম্মাকে একটু শান্তি দাও প্লিজ!"
দুলাভাই আমার উপরে অনেকদিন ধরেই রাগ করেছে।কারণ তার আনা দুইটা বিয়ের প্রস্তাবই আমি আমাদের বাড়ির সংগে ভেটো দিয়েছি।আর পাত্র ভেটো দেওয়াই সে প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়েছে।
এদিকে আমার পছন্দের পাত্রী রুবার আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।কাল বাদে পরশুই আমাদের বিয়ে।বিয়ে করার জন্য রাজি হওয়ার আগে আমাকে কি কি ত্যাগ করতে হবে সেটার একটা লম্বা-চওড়া লিস্ট বানিয়ে দিয়েছে সে।সেটা কম্পিউটারে প্রিন্ট করে আমার রুমের দেওয়ালে আঠা দিয়ে লাগিয়ে রেখেছি।সিগারেট খাওয়া বন্ধ হয়েছে,আমার বেস্টি অর্পণা-কেও ব্লক দিয়েছি,ময়দা নিয়ে গল্প না লিখার কসম খেয়েছি আর সবশেষে কমেন্টে কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে পারবো না।
আজ আমাদের বাসর রাত।আমি আর রুবা এই রাতটার অপেক্ষায় করেছি অনেক নির্জন রাতে।আজকে আমি আমার প্রিয় হলুদ পাঞ্জাবিটা পড়েছি।রাত এগারোটা বাজে ভাবী রুবাকে বাসর ঘরে নিয়ে ঢুকলো।এদিকে আমি,আমার বোন আর দুলাভাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম।দুলাভাই আমাকে বললো, "যাও শালা, প্রথম ইনিংশটা সেড়ে ফেলো।আর সময় নষ্ট করো না।আজকে এমনেও দু-চারটা ইনিংশ খেলতে হবে তোমায়..."
আমি তার কথায় কোনো উত্তর না দিয়ে আস্তে আস্তে বাসর ঘরে ঢুকলাম।আমি বাসর ঘরের ছিটকিনি লাগিয়েই ঘরের লাইটা নিভিয়ে ডিম লাইটা জ্বালিয়ে দিলাম।এরপর পাঞ্জাবিটা খুলে ফেললাম।আর খাটের ওপরে এসে বসলাম।
রুবা বললো, " এই শাড়িটাতে আমার খুব গরম লাগছে।আগে এই শাড়িটা খুলে ফেলি আর খোপাটাও খুলতে হবে।"
আমি বললাম, "আচ্ছা।"
রুবা মাথা থেকে ক্লিপ গুলো সব একে-একে খুলে খাটের ওপরে দাঁড়ালো ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য।খোপা খোলার পর সব চুল তার মুখের উপর জড়ো হয়ে ছিল।সে একটু নিচের দিকে ঝুকে যখনই মাথা পিছনের দিকে ঝাঁকিয়ে চুলগুলো পিছনের দিকে নিতে গেল তখনই হলো এক কান্ড।চলন্ত পাখার ব্লেডের সাথে আটকে গেল আর রুবা সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে ওঠলো, "ও বাবারে,বাবা।মরে যাচ্ছি আমি।"
আমি ডিম লাইটের ক্ষীণ আলোতে ব্যাপারটা আন্দাজ করে ফ্যানের সুইচটা বন্ধ করে দিলাম।এদিকে তীব্র ব্যাথায় আবার চিৎকার করে ওঠলো রুবা।এদিকে আমার আপু এসে দরজায় টোকা দিয়ে বললো, "এই জনি,আস্তে আওয়াজ করতে বল রুবাকে।"
আমি আপু কথায় পাত্তা না দিয়ে রুবার চুল গুলো ফ্যানের ব্লেড থেকে ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করছি।আমি রুবাককে বার-বার চুপ করার অনুরোধ করার পরও সে চুপ না করে আরও জোরে চেঁচিয়ে ওঠলো, "আহ,আহ! আস্তে আস্তে।আস্তে..বাবারে..মারে..মরে গেলাম রে..."
আমি খাটের ওপরে ওঠে রুবার মুখ চেপে ধরলাম।এতে হলো আরেক বিপত্তি।রুবা চিৎকার করতে না পেরে পা দিয়ে খাটে আঘাত করতে লাগলো।আর রুবার পায়ের আঘাতে আমার পুরোনো খাটটা কেচ...কেচছ..কেচ শব্দ করতে লাগলো।
আমি কোনোভাবেই চুলগুলো ছাড়াতে না পেরে ব্লেড দিয়ে আমার পছন্দের চুলগুলো কেঁটে ফেললাম।
এদিকে চুল আটকে গিয়ে রুবার আঁধ খোলা শাড়িটা কখন যে পুরো খুলে গেছে সেটা খেয়ালই করি নি।ওদিকে সবাই আবার দরজায় টোকা দিচ্ছে।রুবা কোনোভাবে শাড়িটা পড়ে নেওয়ার পর আমিও পাঞ্জাবিটা পড়ে নিলাম আর দরজা খুলেই দরজার সামনে মা,বাবা,ভাইয়া,ভাবী,দুলাভাই,আপু সবাই দাঁড়িয়ে আছে। " একটা গাধা তৈরি হয়েছে।", বলে বাবা চলে গেলেন।মাও তাঁরা পিছু পিছু চলে গেলে দুলাভাই হেসে-হেসে বললো, " প্রথম ইনিংশটার ধারাভাষ্য তো অনেক শুনলাম।দ্বিতীয় ইনিংশটার ধারাভাষ্য আর শুনতে চাই না।কালকে অনেক কাজ!"
MJ Jony Chowdhury
ঠিক দেড়টাই এসে সে এবারও আমাকে চমকে দিলো।তার টাইম সেন্স দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ।সে এসেই ব্যাগটা রেখে রেস্টুরেন্টের ওয়াশরুমে গেল।
১ মিনিট পরেই ফিরে এসে বললো, "আরেকটা রেস্টুরেন্টে চলো।" এটা বলেই সে হাঁটতে শুরু করলো আর আমি তার পিছু-পিছু হাঁটতে লাগলাম।
আরেকটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে সে আবার ওয়াশরুমে গেল আর কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বললো, "এটার ওয়াশরুম ঠিকাছে।আমরা এটাতে বসতে পারি। যে রেস্টুরেন্টের ছাড়ার জায়গায়-ই অপরিষ্কার সে রেস্টুরেন্ট কেমনে ভালো খাবার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় সেটাই তো আমার মাথায় ঢুকে না!আজিব!"
আমি তার এই গুণটাতে মুগ্ধ হয়ে তাকে বিয়ে করার চূড়ান্ত সিধান্ত নিয়ে ফেলেছি।
রুবার সাথে আমার পরিচয় ফেসবুকে।আমি গল্প লিখতে পছন্দ করি। 'দুধ বিভ্রাট' নামে একটা রম্যগল্প আমার প্রোফাইলে পোস্ট দেওয়ার পর অনেকের মতো রুবাও আমার গল্পের তুমুল প্রশংসা করে আর কমেন্টে কথা বলতে-বলতে আমাদের বন্ধুত্ব হয়ে যায় আর তারপর প্রেম।
আজ ঘরে ঢুকেই দেখি আমার দুলাভাই আর বোন এসেছে।আমার দুলাভাই আমাকে দেখেই জিজ্ঞেস করলেন, " কিরে শালা,বিয়ে কবে করছো? তোমার ভাবী আর আমার শ্বাশুড়ি আম্মাকে একটু শান্তি দাও প্লিজ!"
দুলাভাই আমার উপরে অনেকদিন ধরেই রাগ করেছে।কারণ তার আনা দুইটা বিয়ের প্রস্তাবই আমি আমাদের বাড়ির সংগে ভেটো দিয়েছি।আর পাত্র ভেটো দেওয়াই সে প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়েছে।
এদিকে আমার পছন্দের পাত্রী রুবার আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।কাল বাদে পরশুই আমাদের বিয়ে।বিয়ে করার জন্য রাজি হওয়ার আগে আমাকে কি কি ত্যাগ করতে হবে সেটার একটা লম্বা-চওড়া লিস্ট বানিয়ে দিয়েছে সে।সেটা কম্পিউটারে প্রিন্ট করে আমার রুমের দেওয়ালে আঠা দিয়ে লাগিয়ে রেখেছি।সিগারেট খাওয়া বন্ধ হয়েছে,আমার বেস্টি অর্পণা-কেও ব্লক দিয়েছি,ময়দা নিয়ে গল্প না লিখার কসম খেয়েছি আর সবশেষে কমেন্টে কোনো মেয়ের সাথে কথা বলতে পারবো না।
আজ আমাদের বাসর রাত।আমি আর রুবা এই রাতটার অপেক্ষায় করেছি অনেক নির্জন রাতে।আজকে আমি আমার প্রিয় হলুদ পাঞ্জাবিটা পড়েছি।রাত এগারোটা বাজে ভাবী রুবাকে বাসর ঘরে নিয়ে ঢুকলো।এদিকে আমি,আমার বোন আর দুলাভাই মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম।দুলাভাই আমাকে বললো, "যাও শালা, প্রথম ইনিংশটা সেড়ে ফেলো।আর সময় নষ্ট করো না।আজকে এমনেও দু-চারটা ইনিংশ খেলতে হবে তোমায়..."
আমি তার কথায় কোনো উত্তর না দিয়ে আস্তে আস্তে বাসর ঘরে ঢুকলাম।আমি বাসর ঘরের ছিটকিনি লাগিয়েই ঘরের লাইটা নিভিয়ে ডিম লাইটা জ্বালিয়ে দিলাম।এরপর পাঞ্জাবিটা খুলে ফেললাম।আর খাটের ওপরে এসে বসলাম।
রুবা বললো, " এই শাড়িটাতে আমার খুব গরম লাগছে।আগে এই শাড়িটা খুলে ফেলি আর খোপাটাও খুলতে হবে।"
আমি বললাম, "আচ্ছা।"
রুবা মাথা থেকে ক্লিপ গুলো সব একে-একে খুলে খাটের ওপরে দাঁড়ালো ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য।খোপা খোলার পর সব চুল তার মুখের উপর জড়ো হয়ে ছিল।সে একটু নিচের দিকে ঝুকে যখনই মাথা পিছনের দিকে ঝাঁকিয়ে চুলগুলো পিছনের দিকে নিতে গেল তখনই হলো এক কান্ড।চলন্ত পাখার ব্লেডের সাথে আটকে গেল আর রুবা সাথে সাথে চিৎকার দিয়ে ওঠলো, "ও বাবারে,বাবা।মরে যাচ্ছি আমি।"
আমি ডিম লাইটের ক্ষীণ আলোতে ব্যাপারটা আন্দাজ করে ফ্যানের সুইচটা বন্ধ করে দিলাম।এদিকে তীব্র ব্যাথায় আবার চিৎকার করে ওঠলো রুবা।এদিকে আমার আপু এসে দরজায় টোকা দিয়ে বললো, "এই জনি,আস্তে আওয়াজ করতে বল রুবাকে।"
আমি আপু কথায় পাত্তা না দিয়ে রুবার চুল গুলো ফ্যানের ব্লেড থেকে ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করছি।আমি রুবাককে বার-বার চুপ করার অনুরোধ করার পরও সে চুপ না করে আরও জোরে চেঁচিয়ে ওঠলো, "আহ,আহ! আস্তে আস্তে।আস্তে..বাবারে..মারে..মরে গেলাম রে..."
আমি খাটের ওপরে ওঠে রুবার মুখ চেপে ধরলাম।এতে হলো আরেক বিপত্তি।রুবা চিৎকার করতে না পেরে পা দিয়ে খাটে আঘাত করতে লাগলো।আর রুবার পায়ের আঘাতে আমার পুরোনো খাটটা কেচ...কেচছ..কেচ শব্দ করতে লাগলো।
আমি কোনোভাবেই চুলগুলো ছাড়াতে না পেরে ব্লেড দিয়ে আমার পছন্দের চুলগুলো কেঁটে ফেললাম।
এদিকে চুল আটকে গিয়ে রুবার আঁধ খোলা শাড়িটা কখন যে পুরো খুলে গেছে সেটা খেয়ালই করি নি।ওদিকে সবাই আবার দরজায় টোকা দিচ্ছে।রুবা কোনোভাবে শাড়িটা পড়ে নেওয়ার পর আমিও পাঞ্জাবিটা পড়ে নিলাম আর দরজা খুলেই দরজার সামনে মা,বাবা,ভাইয়া,ভাবী,দুলাভাই,আপু সবাই দাঁড়িয়ে আছে। " একটা গাধা তৈরি হয়েছে।", বলে বাবা চলে গেলেন।মাও তাঁরা পিছু পিছু চলে গেলে দুলাভাই হেসে-হেসে বললো, " প্রথম ইনিংশটার ধারাভাষ্য তো অনেক শুনলাম।দ্বিতীয় ইনিংশটার ধারাভাষ্য আর শুনতে চাই না।কালকে অনেক কাজ!"
MJ Jony Chowdhury
Comments
Post a Comment