Skip to main content

মেয়ে

মার্কেটে মেয়েদের কস্মেটিক্স এর দোকানে বসে আছি। একের পর এক কাস্টমার আসছে আর নতুন কিছু শিখছি। ৯৫% ই মেয়ে। মাঝে মাঝে অনেক হাসিও পাচ্ছে কিছু কিছু ঘটনা দেখে। তাই বলতে যাবো এখন।
প্রথমে আমার পরিচয় টা দিয়ে নেই। আমি জনি অনার্স প্রথম বর্ষ। রোজার মাস তাই ভার্সিটি বন্ধ। আমার আম্মুর কথা ছেলে মানুষ বাসায় থেকে কি করবি।😑 রাস্তা ঘাটে বের হো, মানুষদের সাথে কথা বল কিছু শিখ। তাই এই রোজার মাসে মামার দোকানে পাঠিয়ে দিয়েছে। এক কথায় বিনা বেতনে কলুর বলদের মতো খাটতে হয়। এর আগে মামার দোকানে তেমন আসা হয় নি, ৭ মাস হলো নতুন মার্কেট। তবে বেশ আগ্রহ নিয়েই কসমেটিকস এর দোকানে আসা। এর আগের বছর আমার বন্ধু এই রকম দোকানে কাজ করে কয়েকজন জাস্ট ফ্রেন্ড বানায়😋। আমিও একই উদ্দেশ্যে আসি। যদিও এখন ২ নাম্বার Gf আছে। প্রথম টার সাথে ব্রেকআপ হয়েছে ৬ মাস, আর নতুন টা ১ মাস হলো রিলেশন করছি। কিন্তু জাস্ট ফ্রেন্ড রাখতে সমস্যা কি🙄। সবাই কম বেশি রাখে আমিও না হয় রাখলাম😇
এইবার মূল ঘটনা তে আসি সকাল সকাল মামার সাথে দোকানে আসি। এসে সব ঠিকঠাক করি আরো কয়েকজন ছেলে আছে দোকানে । প্রথমে আসে একজন ভদ্রমহিলা তার সাথে একটা মেয়ে। খুব ভালো করে বোরকা পরে এসেছে। দেখে মনে হলো মা ও মেয়ে, তাই সামনে গিয়ে ভাব জমানোর চেষ্টা
আন্টিঃ এই ছেলে এই রিং টা বের করো তো।
আমিঃ জী আন্টি, এই নিন। আরো ভালো কিছু রিং আছে আমাদের এইখানে। ( কিছু বের করে দেখালাম)
আন্টি মেয়েটির হাতে দিয়ে দেখলো কয়েকটা।
এইটার দাম কতো।(আন্টি)
আমিঃ বাহ আন্টি আপনার পছন্দ খুবই ভালো। (আসলে আলগা পাম এর থেকেও অনেক ভালো ডিজাইন ছিলো, ক্ষেত মার্কা পছন্দ), তবুও মেয়েকে ইম্প্রেস করতে হবে। একটা মুচকি হাসি দিয়ে আন্টি এটার দাম ২৫০ টাকা। ( আসলে মামা দোকানে ছিলো না তাই কিছু মারার ধান্দা 😜। আসল দাম ৯০ টাকা)
আন্টিঃ ৫০ টাকা হবে না 😒
আমিঃ ( ফকিন্নি ইনি তো দেখি আমার আম্মুর থেকেও বেশি কিপটা, আমার আম্মু তো ২২০০ টাকার জিনিষ ও ৫০০ টাকা দাম বলে, ইজ্জত আর থাকে না দোকানে 😑)মনে মনে বলে, না আন্টি একদাম ১৫০ রাখা যাবে।
আন্টিঃ না না ১০০ দিবো এর বেশি একটা টাকাও না। বলে চলে যাচ্ছে।
আমিঃ জী আন্টি নিয়ে জান।
মেয়েটার হাতে রিং পরে নেয়। আমি আবার ও একটা পাম ছুড়ে মারলাম বাহ আপনার মেয়ের হাতে ভালোই মানিয়েছে। আপনার পছন্দ অনেক ভালো। 😅
আন্টিঃ একটু খুশি হয়ে, ও তাই। আর ও আমার মেয়ে না আমার বড় ছেলের বউ। 💔
শুনেই ভিতরটা কেমন করে উঠলো।
বেক গ্রাউন্ড মিউজিকঃ ডিল জুরে বিনা হি টুট গায়ে, হাত মিলে বিনাহি ছুট গায়ে💔💔
ভিতর থেকে আমার বিবেক বলছে শালা শুধু শুধু রোযা রমজানের মাসে মিথ্যা বলে গুনাহ কামালি। কোনো কাজেই দিলো না।
আমি মুখের হাসি মুখেই রাখলাম আন্টি তার মেয়েকে মানে বউমাকে নিয়ে চলে গেলো। 😅
মনকে শান্তনা দিলাম।প্রথম বলেই কি ছক্কা মারা যায় নাকি।
একের পর এক আসছে আর,যাচ্ছে। একদলের মানুষ আছে দাম শুনলেই দোর, আরেক দল আছে ১০ ,৫ টাকার জন্যে বগরবগর করে, ১০, ৫ টা দোকান ঘুরে এসে আবারও ওই দামের কথাই বলে 😂
আজব জাতি আমরা, ১০ মিনিট এর পথ ৫ টাকা ভাড়া দিয়ে চলে যাই হাটার আলসেমি তে। আর ৫, ১০ টাকা কমের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা মার্কেটের এ মাথা থেকে ও মাথা ঘুরে বেড়ায় তাও রোজা রেখে। 😂
এই হলো বোকা মেয়েদের জাত। আর পুরুষ মানুষ যারাই আসছে দাম কতো বলে একটা দাম বলে কোনো বাড়াবাড়ি না করে নিয়ে চলে যায়।
এইবার আসে একদল রমণী, রমনী বললে ভুল হবে। এদের ক্ষেত্রে পেত্নি, ডাইনি, শাকচুন্নি উপাধী দিলে ভালো হবে, সবাই পাওডার সুন্দরী 😐
মুহুর্তের মধ্যে দোকানের অরধেক এর বেশি জিনিস নিয়ে ঘাটাঘাটি শুরু করে দিয়েছে। ১৫ মিনিট এ দোকান মাথায় তুলে নিয়েছে, সে কি হাসি পেত্নী দের মতো। একটা কে তো হাতে ব্রাশ ধরিয়ে দিতে মন চেয়েছে যে আগে ব্রাশ করে নে। এই সময় মামা ছিলো তাই বেশি কিছু বলতে পারিনি। বুঝলাম মামার রেগুলার কাস্টমার।
আমার নাদুস নুদুস যুবক মামা পাম দিয়েই যাচ্ছে দিয়েই যাচ্ছে, আর মেয়ে গুলোও এক একটা ঢলে ঢলে পরছে, ভাইয়া আপনিও না পারেন ও বটে। 😚
আমার বন্ধু সোহেল এর কথা মনে পরে গেলো, মেয়েদের প্রসংশা করলে নাকি ওরা অনেক খুশি হয়। আজ তা দেখেও নিলাম। মেয়েরা যে এতো বোকা তা আজকে জানলাম।নিজের সম্পর্কে সব যেনেও একজন এর মিথ্যা প্রসংশা তে এতো গলে কিভাবে এরা😕😕
সত্যিই দুনিয়া বড়ই আজব।
চলে যাওয়ার পড়ে মামাকে বললাম, " মামা রোজা রেখে এতো মিথ্যা কিভাবে বলো। 😑"
মামা আমার হেসে হেসে উত্তর দিলো এই ব্যবাসার মূল নিনজা টেকনিকই নাকি এটা। 😂
ভালোই লাগলো, তবে একটা জিনিস দেখলাম যে সব পন্যর দাম গায়ে যা লেখা থাকে তার থেকে ৩০ ৪০ টাকা কমে বিক্রি করা হয়। অনেক অবাক হলাম এই বেপার টা জানতে পেরে।
প্রথম gf কে নিয়ে শপিং এ গেলে যা দাম ছিলো তাই দিয়ে দিয়েছি ভাব নিয়ে। কিন্তু এখন দেখছি অনেক ঠকে গেছি আমি ওই দোকানীদের কাছ থেকে। 🙄
ব্রেকআপ এর পর ফকিন্নিরে বলছিলাম, আমার থেকে যা যা নিছোত সব ফিরিয়ে দে। কিন্তু না ফকিন্নি তার বদলে আমারে ব্লক মারছে😑😫😫। ফকিন্নির কাছে ২৫০ টা টাকাও পাইতাম ওইটা ও দেয় নাই🐸
বিকালের আগে মামা আবার ও একটু বাহিরে যায়। এইবার আসে এক মডার্ন মেম আসে , আসলে মডার্ন বললে ভুল হবে ২ দিন ধরে মনে হয় ফ্লাট বাসায় থাকে 😂
হেলো ভাইয়া লেমন কালার এর লেস টা দেখান তো। ( আরেক ছেলেকে) ও আবার ইংরেজি বুঝে না তাই বললো আপু বাংলা তে বলেন কোন কালার ।
মেম তো এইবার একটু বেংগ করে কি!!! লেমন কালার এর বাংলা ও বলতে হবে, কি পড়া লেখা করলে এতো বছর। ছেলে মানুষ না আর কিছু
আমি বসে বসে মোবাইল টিপছিলাম। উনার কথায় মাথায় রাগ ঊঠে যায়।
গিয়ে ভালোভাবেই জিগ্যেস করলাম, হেলো।আন্টি আপনার কি লাগবে আমাকে বলুন , ( আন্টি বলাতে একটু রেগে গেলো মনে হয়)
আমাকে লেমন কালার এর লেস দেখান।
আমি বললাম " লেমন কালার এর তো নেই, অরেঞ্জ আছে। "
উনি আরে কমলা কালার এর লেস নেই এটা কোনো কথা 🤨
আমি জী আন্টি অরেঞ্জ কালার মানেই কমলা আর।আপনি যেই।লেমন লেমন করছেন ওইটা লেবুর কালার এখন শেষ হয়ে গেছে মনে হয়।
মেম সাহেব আচ্ছা আচ্ছা রাখো আসছি, বলে চলে গেলো।
অপমানিত হয়ে চলে গেলো। 😏
অপমান করতে পেরে ভালোই লাগলো বেশি ভাব নিচ্ছিলো। 😇
বিকেল ৫ টার দিকেই ঘটে গেলো আজকের দিনের সেরা ঘটনা 😋
দেখলাম সোহেল এর ১২ নাম্বার গফ আসছে। ও আমাকে চিনে না, কারণ এখনো সামনাসামনি দেখা হয়নাই আমাদের। তবুও মুখে একটা মাস্ক পরে নিলাম । যাতে ভুলেও চিনতে না পারে সাথে এক বড় ভাই ছিলো। বুঝতে বাকি রইলো না এইটা এই মেয়ের বফ। হাত ধরে এটা ওটা দেখছে আমার তো মনে লাড্ডু ফুটতেছে। কারণ কয়দিন আগেই সোহেল আর আমি একটা বাজী ধরেছি যে, আমার ২ নাম্বার ব্রেক আপ আগে হবে নাকি ওর ১২ নাম্বার 😂। আজকে আমি জয়ী হতে যাচ্ছি 😂🤣। লুকিয়ে একটা ছবি তুলে ওকে পাঠিয়ে দিলাম।সাথে অজস্র হা হা 😂🤣। বেচারা অনলাইন এই ছিলো। আমার হা হা ইমুজি বেশি হয়ে গেছিলো।
তাই বেচারা আমাকে বলেই ফেললো, "দেখ! এই রোজার মাসে আমি তোরে অভিশাপ দিলাম তোর রিলেশন ও আজকেই শেষ হবে। 😡😡 "
আমি আর কিছু বললাম না, বেচারা অনেক কষ্ট পেয়েছে। অবশ্য আমার গফ ও আমাকে জিগ্যেস করেছিলো মার্কেটের নাম কি? কতো তলা? আমি মিথ্যা বলেছি অন্য আরেক জায়গার নাম বলেছি।
সোহেল এর অভিশাপ টা লেগে গেলো 😫😫। ইফতারের পরেই দেখি আমার গফ আরেক ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেরাচ্ছে। ওকে দেখে আমি লুকিয়ে যাই। ভাবলাম এতো মানুষের সামনে আমার ইজ্জত এর বেগুনি ভাজা করতে হবে না রাতেই করবো। এদের ও একটা ছবি গোপনে ধারণ করি।😔😔😔
রাত ১০ টার দিকে গফ মেসেজ দিলো।
গফঃ বেবি আমার না একটা ড্রেস অনেক পছন্দ হয়েছে। এইবার ঈদে আমাকে কিনে দিও প্লিজ প্লিজ বাবু 😘😘😘
আমিঃ হা জানি দারাও পিক দিতেছি তোমার ড্রেস এর 😤😤😤
জনি সেন্ট ইউ এ ফটোঃ
গফঃ you can't reply to this conversation......
আশ্চর্য
মেয়েটা ব্লক মারলো কেনো। এখনো তো ওরে বকা দেয়া বাকি ছিলো

Comments