আজ
আমার পাগলীটার বিয়ে ৷ আজকের পর হয়ত পাগলীটার উপর কোনো অধিকার ই থাকবে না ৷
অবশ্য অধিকার কোনো কালেই খুব একটা যে ছিলো তেমনও না৷ যা ছিলো আজ সেটাও
হারাবো ৷ এটাই ত স্বাভাবিক। অন্যের বউ এর উপর আমার কিসের আবার অধিকার।
পাগলী?
এটা আমার দেয়া নাম। আসল নাম লিজা ৷ আমিই ডাকতাম পাগলী বলে ৷ বড্ড পাগলী টাইপের মেয়ে। তাই!
এইত বছর তিনেক আগে আমাদের পরিচয়টা হয় জুকারবার্গ এর ফেইসবুকের মাধ্যমে ৷ লিজার সাথে পরিচয় হয় নীল রঙ এর ফেইসবুকের কল্যানে। আর সেটার পরিনতিও নীল বর্ণের মত বেদনা লাভের মাধ্যমে৷ এটা হয়ত কো ইন্সিডেন্ট৷ থাক। যাক গা এসব!
শুরুর দিকের সময়টা একটু কেমন যেনো ছিলো। কিভাবে আমি এড পাঠালাম আর কিভাবেই বা চ্যাট শুরু সব কিছুই দুজনের অজান৷ প্রথমদিকে আমাদের চ্যাট হত শুধু মাত্র তার মাই ডে আর আমার মাই ডে ছবি নিয়ে। সে দিত তার সুন্দর সুন্দর সব ছবি আর আমি দিতাম আমার শখের পাখির ছবি৷ পাগলীটারও এক জোড়া পাখি ছিলো৷ কিন্তু ডিম দিতো না। এই পাখির কল্যানে লিজা আমার জীবনে আশা শুরু করে। পাখির টপিক থেকে চলে আসতে আসতে বন্ধুত্বের দিকে। একদিন হুট করেই পাগলীটা বলে চলেন মিট করি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি৷ আমি ঢাকা ছিলাম। অ আচ্ছা। পরিচয় পর্ব টা সেরে নি। লিজা পড়তো তখন একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে ৷ বিবিএ তে৷ আর আমি ছিলাম একটা প্রাইভেট মেডিকেলের ছোটখাটো সাপ্লী খাওয়া স্টুডেন্ট৷ ফোর্থ ইয়ার এ৷ যখন লিজা আমাকে দেখা করার কথা বলে তখন মাত্র ই সাপ্লী শেষ করে ঢাকা ঘুরতে যাই৷ সেবার দেখা না হলেও আমাদের বন্ধুত্ব টা আরো বাড়তে থাকে ৷ চ্যাট হত প্রতি নিয়ত৷ আমাদের প্রথম দেখা টাও হয় হুট করেই৷ দুপুর করে হুট করে বলে দেখা করার কথা৷ আমিও আর না বলি কি করে! আলসেমির কারনে প্রথম দিন ই মেয়েটাকে আমি অপেক্ষায় করাই ২০/২৫ মিনিট৷ অবশ্য তাতে তার কোনো অভিযোগ ছিলো না। ছিলো না কোনো ক্ষোভ৷ এভাবেই শুরু! অল্প সময়েই আমরা অনেকটা বেশি বুঝতে শুরু করি একে অপর কে৷ প্রথম দেখার পরের দিন ই আবার হয়ে যায় দেখা৷ এবারও হয় হুট করে৷ আমাদের যতবার দেখা হয় তার মধ্যে খুব কম ই হয় প্রি প্ল্যান্ড! না হয় বাকী সব ই সাডেন৷ প্রতিটি দিন আমার কাছে এক অন্য রকম আমি কে ফিল করতে শুরু করি৷ অল্প সময়ে এতোটা আপন করে নিবো নিজেও ভাবিনি৷ অনেক বেশি বাস্তবাদী ছিলাম আমি৷ অনেক বেশি পজিটিভনেস কাজ করতো আমার মাঝে। তার নাকি আমার এক গুণ গুলোই অনেক বেশি পছন্দের৷ পাগলীটাকে আপন করতে করতে কখন যে মনে কোঠরে জায়গা দিয়ে ফেলি নিজেও বুঝে উঠতে পারিনি৷ আর পারবোই বা কেমন করে! আমি ত ডুবে ছিলাম পাগলীটার বাচ্চামি গুলো তে৷ অল্প দিনে বড্ড বেশি ভালোবেসে ফেলি। একদিন কি হয়েছে জানলে আসেই বলবেন ওকে পাবনা পাঠানো হয়নি কেনো৷ পাগলীটা একদিন তার ক্লাস মিস দিয়ে সারা দিন আমার সাথে ছিলো। অনেক ঘুরাঘুরি আর আড্ডার পর যখন ওর বাসায় যাওয়ার জন্য রিক্সা নিয়ে বাসার কাছাকাছি আসলাম তখন তার ইচ্ছে হলো মালাই চা খাবে! কি আর করা। যেমন ভাবনা তেমন কাজ! নিয়ে গেলাম সন্ধ্যার সময় মালাই চা খেতে৷ আরেকদিনের পাগলামীর কথা বলি৷ সেদিন ও সেইম অনেকক্ষন ঘুরাঘুরি পর যখন ই তার বাসায় যাওয়ার জন্য রিক্সা নিতে যাবো তখন ক পাগলীটা আবদার করে বসে আমার বাসায় আসবে। কি আর করার৷ নিয়ে আসলাম বাসায়। কোনো কথা নাই বার্তা নাই। হুট করেই বাসায় নিয়ে আসি৷ কিন্তু এসেই তিনি আম্মুর সাথে সেই কি গল্প শুরু। এইদিকে যে তার বাসায় দেরি হচ্ছে তার খেয়াল নেই৷ সেদিন বারান্দায় আমার পাখি দেখাতে নিয়ে যাই পাখি দেখার মাঝে হুট করেই আমাকে মদন প্রমান করে পাগলীটা জরিয়ে ধরে আমাকে৷ আমি মদনের মত শুধু তার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম৷! এরকম হাজারও পাগলামীর গল্প আছে! আছে অনেক সুখ স্মৃতি৷ শুধু আজ পাগলীটা ই আর আমার নেই৷
এতো এতো ভালো লাগার মাঝেও পাগলীটা আমার না৷ ভালোবাসে অন্য কাউকে! কি ভাবছেন তাহলে আমার সাথে এতো কিছু করে ঠকালো কেনো? আসলে সে আমাকে ঠকায় নি। বাচ্ছা স্বভাবের মানুষ গুলোর মনে কখোনো কাউকে ঠকানোর উদ্দেশ্য থাকে না। দোষ টা হয়ত আমার ই! অল্পতেই তাকে এতো আপন করেছিলাম।
পাগলীটাকে অনেক বেশি ভালোবাসি৷ সেটা সেই গত দু তিন বছর ধরেই৷ সেও জানে। অনেক ভাবে বুঝিয়েছে মুভ করতে। কিন্তু আমি কি করবো বলেন! আমি যে তার বাচ্চামি গুলোকে অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছি৷
অতীত ছেড়ে এবার বর্তমান এ আসি ৷ বিয়েতে যাওয়ার জন্য পাগলীটা নিশ্চয় এতোক্ষনে আমাকে কল দিয়ে অস্থির হয়ে যাচ্ছে৷ কিন্তু আজ মোবাইল রিসিভ করার সাধ্য আমার নেই। কারন মোবাইল থেকে আমি আছি এক অজানা দূরত্বে। যে দূরত্ব মাপার সাধ্য নেই কারো৷ এপাড় হতে ওপাড়ে আমার পাগলীটার বিয়ে না হয় আমি একা একা ই দেখলাম৷ হই না আজ একটু স্বার্থপর৷ দুনিয়াতে থেকে আমার পাগলীটার বিয়ে দেখার সাধ্য যে আমার ছিলো না! তাই একা একা ই চলে আসলাম এপাড়ে, আমার পাগলীটাকে ছেড়ে!
,
নোটঃ গল্পের প্রথাংশ এবং শেষাংশ বাদে বাকীটুকু সম্পূর্ণ সত্য এবং জীবন হতে নেয়া৷ :')
MJ Jony Chowdhury
পাগলী?
এটা আমার দেয়া নাম। আসল নাম লিজা ৷ আমিই ডাকতাম পাগলী বলে ৷ বড্ড পাগলী টাইপের মেয়ে। তাই!
এইত বছর তিনেক আগে আমাদের পরিচয়টা হয় জুকারবার্গ এর ফেইসবুকের মাধ্যমে ৷ লিজার সাথে পরিচয় হয় নীল রঙ এর ফেইসবুকের কল্যানে। আর সেটার পরিনতিও নীল বর্ণের মত বেদনা লাভের মাধ্যমে৷ এটা হয়ত কো ইন্সিডেন্ট৷ থাক। যাক গা এসব!
শুরুর দিকের সময়টা একটু কেমন যেনো ছিলো। কিভাবে আমি এড পাঠালাম আর কিভাবেই বা চ্যাট শুরু সব কিছুই দুজনের অজান৷ প্রথমদিকে আমাদের চ্যাট হত শুধু মাত্র তার মাই ডে আর আমার মাই ডে ছবি নিয়ে। সে দিত তার সুন্দর সুন্দর সব ছবি আর আমি দিতাম আমার শখের পাখির ছবি৷ পাগলীটারও এক জোড়া পাখি ছিলো৷ কিন্তু ডিম দিতো না। এই পাখির কল্যানে লিজা আমার জীবনে আশা শুরু করে। পাখির টপিক থেকে চলে আসতে আসতে বন্ধুত্বের দিকে। একদিন হুট করেই পাগলীটা বলে চলেন মিট করি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি৷ আমি ঢাকা ছিলাম। অ আচ্ছা। পরিচয় পর্ব টা সেরে নি। লিজা পড়তো তখন একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি তে ৷ বিবিএ তে৷ আর আমি ছিলাম একটা প্রাইভেট মেডিকেলের ছোটখাটো সাপ্লী খাওয়া স্টুডেন্ট৷ ফোর্থ ইয়ার এ৷ যখন লিজা আমাকে দেখা করার কথা বলে তখন মাত্র ই সাপ্লী শেষ করে ঢাকা ঘুরতে যাই৷ সেবার দেখা না হলেও আমাদের বন্ধুত্ব টা আরো বাড়তে থাকে ৷ চ্যাট হত প্রতি নিয়ত৷ আমাদের প্রথম দেখা টাও হয় হুট করেই৷ দুপুর করে হুট করে বলে দেখা করার কথা৷ আমিও আর না বলি কি করে! আলসেমির কারনে প্রথম দিন ই মেয়েটাকে আমি অপেক্ষায় করাই ২০/২৫ মিনিট৷ অবশ্য তাতে তার কোনো অভিযোগ ছিলো না। ছিলো না কোনো ক্ষোভ৷ এভাবেই শুরু! অল্প সময়েই আমরা অনেকটা বেশি বুঝতে শুরু করি একে অপর কে৷ প্রথম দেখার পরের দিন ই আবার হয়ে যায় দেখা৷ এবারও হয় হুট করে৷ আমাদের যতবার দেখা হয় তার মধ্যে খুব কম ই হয় প্রি প্ল্যান্ড! না হয় বাকী সব ই সাডেন৷ প্রতিটি দিন আমার কাছে এক অন্য রকম আমি কে ফিল করতে শুরু করি৷ অল্প সময়ে এতোটা আপন করে নিবো নিজেও ভাবিনি৷ অনেক বেশি বাস্তবাদী ছিলাম আমি৷ অনেক বেশি পজিটিভনেস কাজ করতো আমার মাঝে। তার নাকি আমার এক গুণ গুলোই অনেক বেশি পছন্দের৷ পাগলীটাকে আপন করতে করতে কখন যে মনে কোঠরে জায়গা দিয়ে ফেলি নিজেও বুঝে উঠতে পারিনি৷ আর পারবোই বা কেমন করে! আমি ত ডুবে ছিলাম পাগলীটার বাচ্চামি গুলো তে৷ অল্প দিনে বড্ড বেশি ভালোবেসে ফেলি। একদিন কি হয়েছে জানলে আসেই বলবেন ওকে পাবনা পাঠানো হয়নি কেনো৷ পাগলীটা একদিন তার ক্লাস মিস দিয়ে সারা দিন আমার সাথে ছিলো। অনেক ঘুরাঘুরি আর আড্ডার পর যখন ওর বাসায় যাওয়ার জন্য রিক্সা নিয়ে বাসার কাছাকাছি আসলাম তখন তার ইচ্ছে হলো মালাই চা খাবে! কি আর করা। যেমন ভাবনা তেমন কাজ! নিয়ে গেলাম সন্ধ্যার সময় মালাই চা খেতে৷ আরেকদিনের পাগলামীর কথা বলি৷ সেদিন ও সেইম অনেকক্ষন ঘুরাঘুরি পর যখন ই তার বাসায় যাওয়ার জন্য রিক্সা নিতে যাবো তখন ক পাগলীটা আবদার করে বসে আমার বাসায় আসবে। কি আর করার৷ নিয়ে আসলাম বাসায়। কোনো কথা নাই বার্তা নাই। হুট করেই বাসায় নিয়ে আসি৷ কিন্তু এসেই তিনি আম্মুর সাথে সেই কি গল্প শুরু। এইদিকে যে তার বাসায় দেরি হচ্ছে তার খেয়াল নেই৷ সেদিন বারান্দায় আমার পাখি দেখাতে নিয়ে যাই পাখি দেখার মাঝে হুট করেই আমাকে মদন প্রমান করে পাগলীটা জরিয়ে ধরে আমাকে৷ আমি মদনের মত শুধু তার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম৷! এরকম হাজারও পাগলামীর গল্প আছে! আছে অনেক সুখ স্মৃতি৷ শুধু আজ পাগলীটা ই আর আমার নেই৷
এতো এতো ভালো লাগার মাঝেও পাগলীটা আমার না৷ ভালোবাসে অন্য কাউকে! কি ভাবছেন তাহলে আমার সাথে এতো কিছু করে ঠকালো কেনো? আসলে সে আমাকে ঠকায় নি। বাচ্ছা স্বভাবের মানুষ গুলোর মনে কখোনো কাউকে ঠকানোর উদ্দেশ্য থাকে না। দোষ টা হয়ত আমার ই! অল্পতেই তাকে এতো আপন করেছিলাম।
পাগলীটাকে অনেক বেশি ভালোবাসি৷ সেটা সেই গত দু তিন বছর ধরেই৷ সেও জানে। অনেক ভাবে বুঝিয়েছে মুভ করতে। কিন্তু আমি কি করবো বলেন! আমি যে তার বাচ্চামি গুলোকে অনেক বেশি ভালোবেসে ফেলেছি৷
অতীত ছেড়ে এবার বর্তমান এ আসি ৷ বিয়েতে যাওয়ার জন্য পাগলীটা নিশ্চয় এতোক্ষনে আমাকে কল দিয়ে অস্থির হয়ে যাচ্ছে৷ কিন্তু আজ মোবাইল রিসিভ করার সাধ্য আমার নেই। কারন মোবাইল থেকে আমি আছি এক অজানা দূরত্বে। যে দূরত্ব মাপার সাধ্য নেই কারো৷ এপাড় হতে ওপাড়ে আমার পাগলীটার বিয়ে না হয় আমি একা একা ই দেখলাম৷ হই না আজ একটু স্বার্থপর৷ দুনিয়াতে থেকে আমার পাগলীটার বিয়ে দেখার সাধ্য যে আমার ছিলো না! তাই একা একা ই চলে আসলাম এপাড়ে, আমার পাগলীটাকে ছেড়ে!
,
নোটঃ গল্পের প্রথাংশ এবং শেষাংশ বাদে বাকীটুকু সম্পূর্ণ সত্য এবং জীবন হতে নেয়া৷ :')
MJ Jony Chowdhury

Comments
Post a Comment