হঠাৎ কোথা থেকে ব্লু জিন্স আর সাদা কালোর সংমিশ্রনের টিশার্ট পড়া এক লম্বা যুবতী মেয়ে আমাদের দোকানের ভেতরে প্রবেশ করলো।
হাতে একখানা প্রায় ৬ ইঞ্চির মতো মোটা বই,আমি বিস্ময়ের সাথে বইটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সে আমার থেকে এক হাত দূরে থাকা আসনটিতে বসলো।
আমাদের দোকানটা ছিলো ডিপার্টমেন্টাল স্টোর,চাল,ডাল,চিনি,লবন,সব ধরনের রিচার্জ বিকাশ,কসমেটিক্স, হরেক খাদ্যসামগ্রী দিয়ে ভরা থাকতো দোকান।
আমি অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে তার মুখের দিকে তাকালাম,সে ভারি বইখানা সামনে থাকা টেবিলে রাখলো,
আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,খাওয়ার কি আছে?
আমি উলটো তাকে প্রশ্ন করলাম আপনি কি খাবেন ?
মেয়ে-আমার অনেক ক্ষুধা লেগেছে।
আমি-ও খাওয়ার মতো বিস্কুট আছে,কেক আছে,সফট ড্রিংক,কোল্ড ড্রিংক আছে।
মেয়ে-ওসব খেয়ে কি পেট ভরবে?
আমি-পরিমাণ মতো খেলে তো পেট ভরবে।
আর তাতেও যদি পেট না ভরে সামনের দিকে তিন চারটা পাশাপাশি হোটেল আছে,ওখানে গিয়ে খেতে পারেন।
মেয়েঃ ধুর হোটেলের পরিবেশ ভালো থাকে না।
আর হোটেলে কি কি রান্না হয়?
আমিঃ হোটেল হিসেবে আলাদা আলাদা রান্না হয় আর সেগুলো যে সবসময় পাওয়া যায় তাও নয়।
মেয়েঃথাক আমার ওতো কিছু জেনে লাভ নাই।
আপনি আমাকে খেতে ভালো এমন কোন বিস্কুট দিন,আর পেট যেনো ভরে....
আমি পেছন দিকটায় তাকিয়ে তাকে বললাম চকলেট বিস্কুট খাবেন?
সে কিছু বললো না,আমি পেছন থেকে প্যাকেটটা এনে তার সামনে দিলাম।
সে প্যাকেটটা প্রথমদিকে হালকা খোলার চেষ্টা করলো,এরপর এদিক ওদিক তাকিয়ে কেচি খুজে বের করে মাথাটা কেটে নিলো।
এরপর সে আমাকে বললো এক কাপ চা খাবো।
আমি-আমাদের দোকানে চা পাওয়া যায়না।
আমার কথা শেষ না হতেই অনেকটা সামনের দিকের চায়ের দোকানের ছেলেটা আমার দোকানে আসলো,
.
জিজ্ঞেস করলো-চায়ের কাপ আছে নাকি?
আমি মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম-কি চা খাবেন?
মেয়েটা-দুধ চা,সাথে লেবু আর দারচিনি মিক্স।
.
আমি একটু হেসে বললাম এখানে কাস্টমাইজ চা পাবেন না☺
মেয়েটা বললো কাস্টমাইজ চা আবার কি?
আমি চুপ।
.
মেয়েটা সুমনের দিকে তাকিয়ে বললো-ভালো করে একটা চা বানিয়ে নিয়ে আসেন।
.
সুমন চলে গেলো।
মেয়েটা পায়ের উপর পা তুলে পেপার খুলে পড়তে শুরু করলো,
.
আমি পাশ থেকে তাকে খানিকটা দেখছিলাম,কি ভালো দেখতে!
আর কি আলাদা একটা এটিটিউড☺
বেশ ভালো একটা সুগন্ধি ছড়াচ্ছে সে☺
বোধ হয় খুব দামী পারফিউম।
এরই মধ্যে চা চলে এলো,
.
জানিনা কেনো চায়ের দোকানদার এর ছেলে সুমন অন্য রকম একটা হাসি দিয়ে চা দিয়ে চলে গেলো,বুঝলাম না কিসের ইঙ্গিত😒
মেয়েটা খুব ধীরে ধীরে বিস্কুট চায়ে ডুবিয়ে ডুবিয়ে খেতে লাগলো,
মেয়েটা আমাকে জিজ্ঞেস করলো-দোকানটা কি আপনার?
আমি-না।আমি স্টুডেন্ট,বাবা জব করে সময় পায়না।
আমি ফ্রি আছি তাই টুকটাক বসা হয়।
মেয়েটা সব বুঝের মতো মাথা ঝাকিয়ে আবার চা ডুবিয়ে খাওয়া শুরু করলো,খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলো মিনারেল ওয়াটার আছে নাকি?
আমি মোটামুটি ঠান্ডা একটা মিনারেল ওয়াটার দিলাম।
খানিক সময় বাদে,মেয়েটা হাত ঝেড়ে পেছনের পকেট থেকে মানি ব্যাগ বের করলো,
আমি ভাবলাম মনে হয় টাকা দেবে,কিন্তু না মানিব্যাগ থেকে টিস্যু বের করে মুখ মুছে হাত মুখ মুছে নিলো সে,
আবার মানিব্যাগটা পকেটে রেখেও দিলো,
আমাকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটা অর্ধেক বিস্কুট আর অর্ধেক পানি রেখে বেরিয়ে যাচ্ছিলো,
আমি পেছন থেকে তাকে ডাক দিলাম...
এক্সকিউজ মি......
মেয়েটা পিছে ফিরে তাকালো।
আমি-আপনার ৫৫ টাকা হয়েছে।
মেয়ে-কিসের টাকা?
আমি-বিস্কুট আর পানির বিল।
মেয়ে-এসব তো আপনি মেহমান হিসেবে খাইয়্যেছেন।
.
মেয়ের কথা শুনে আমি যেনো আকাশ থেকে পড়লাম,হাসবো নাকি কাদবো ভাবছিলাম😲
আমি-দেখুন আমি মশকারার পাত্র নই।
মেয়ে-সমস্যা নেই,মশকারার পাত্র না হলে হয়ে যাবেন।
আমি-মানে কি?
মেয়ে-আমাকে কি আপনাকে মেহমানের মতো লাগেনি?
আমি আর কোথাও না বসে,আপনার এখানে বসলাম, কিছু খাওয়ানো তো আপনার দায়ীত্ব ছিলো।
আমি-আমি তো নিজ থেকে আপনাকে কিছু খাওয়াই নি,
মেয়ে-আচ্ছা ঠিকাছে,কতো দিতে হবে?
আমি-৫৫ টাকা।
বিস্কুট ৪০,পানি ১৫।
মেয়ে-এইটুকু একটা বিস্কুট ৪০ টাকা?
আমি-এটা চকলেট বিস্কুট, তাছাড়া দাম লেখাই থাকে।
মেয়ে-কিন্তু আমি তো সব খাইনি,পানিও পুরাটা খাইনি।
.
আমি মনে মনে বললাম-আমি কি নিষেধ করছিলাম?
আমি বুদ্ধি খাটিয়ে বললাম-আপনি কতোটুকু খেয়েছেন তা তো আমার দেখার বিষয় নয়..
মেয়ে-আচ্ছা,৩০ টাকা রাখেন।যেহেতু অর্ধেক খেয়েছি☺
আমি-আমি তো চাইলে আরো বেশিও রাখতে পারতাম?
মেয়ে-তাহ কিভাবে রাখবেন,আমি Well Educated Person.
.
আমি মনে মনে ভাবলাম শিক্ষার সাথে বিস্কুট,পানির বিলের কি সম্পর্ক!
মেয়েটা আর কথা না বাড়িয়ে তার শিক্ষার % প্রমানের জন্য টাকা দিয়ে দিলো।
এরপর সে বইটা হাতে নিয়ে চলে গেলো,আমি হাফ ছেড়ে বাচলাম।
অনেকটা ক্ষুধা পেয়ে গেছিলো,বিস্কুট একটা হাতে নিয়েছি মাত্র,মেয়েটা কোথা থেকে দোকানের সামনে এসে হাজির।
বিস্ময়ের সাথে আমায় জিজ্ঞেস করলো-বিল দিলাম আমি আর বিস্কুট খাচ্ছেন আপনি?(খানিকটা রাগের সাথে বললো)
এদিকে দিন।
আমি বিস্কুট আর বোতল তার হাতে দিলাম।সে সেগুলো নিয়ে গেলো,
কোন এক কৌতূহলবশত আমি দোকান হতে মাথা বের করে তাকে দেখার চেষ্টা করলাম।একটা সামনেই সে রিক্সা ঠিক করছিলো।
সে যেখানে যাবে সেখানে শুধু মাত্র একটাই রিক্সা যাবে বলে সম্মতি জানালো।
তবে লোকটি বেশ বৃদ্ধ ছিলো।
মেয়েটি এবার যে কথাটি লোকটিকে বললো,তা তার প্রতি আমার ধারণাটা পুরোপুরি বদলে দিলো।
মেয়েটা রিক্সায় উঠে লোকটাকে জিজ্ঞেস করলো-দুপুরের খাবার খেয়েছেন?
বৃদ্ধ লোকটি একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে মাথা নাড়িয়ে বললো না।
মেয়েটা রিক্সা থেকে নামলো,রিক্সাওয়ালা জিজ্ঞেস করলো যাবেন না?
মেয়েটা-আপনার রিক্সায় আমি যাবো না।
বৃদ্ধ-কেন?
মেয়ে-আগে আপনি কিছু খেয়ে নেন,তারপর যাবো।
মেয়েটা বিস্কুটের প্যাকেটটা পাশে থাকা বসার স্থানে রাখলো,সাথে পানির বোতল।
মেয়ে-এগুলো খেয়ে নেন।
আমাদের এলাকায় গেলে আপনাকে বিরিয়ানি খাওয়াবো।
.
ক্ষনিকের জন্য নিজেকে উগান্ডার পাগল মনে হচ্ছিলো..
এতোক্ষন যে মাত্র কয়টা টাকার জন্য ইচিং বিচিং করছিলো আমার সাথে,তার মুখে এসব সুন্দর সুন্দর বুলি শুনে আমি শিহরিত😂
যাক মেয়েটা পাশে দাঁড়িয়ে রইলো,বৃদ্ধ লোকটি তৃপ্তির সাথে অবশিষ্ঠ খাবার খেয়ে নিলো।
খাওয়া শেষে মেয়েটি রিক্সায় উঠে বসলো,বৃদ্ধ লোকটির চোখে মুখে তখন কেমন তৃপ্তির ছাপ তা বলে বোঝাবার মতো নয়..
এসব মেয়েরা মোটামুটি আধুনিক ধাচের পোশাক পড়লেও এদের জন্য এক পক্ষ থেকে সংক্রিয়ভাবে দোয়া চলে যায়...
তারা চলে যাওয়ার পর,রিক্সাওয়ালাগুলো অনেক কথা বলাবলি করতে লাগলো..তার মধ্যে যে কথাটি স্পষ্ট শুনলাম,
তা হলো-পাগল।
.
আমার মুখে তখন এক মুচকি হাসি,মনে মনে বললাম খারাপ কি যদি পাগলেরাই সুস্থ মানুষের মতো আচরণ করে?
সমাজে এমন পাগলের বড়োই প্রয়োজন।
আমার আসনে ফিরে আসতেই চায়ের কাপ অপরিশোধিত বিলের কথা মনে করিয়ে দিলো।
যাক ৭ টাকার মেহমান ৭ হাজার কোটি টাকার ভালো লাগার যোগান দিয়ে গেলো☺☺☺☺
"৭টাকার মেহমান"
MJ Jony Chowdhury
হাতে একখানা প্রায় ৬ ইঞ্চির মতো মোটা বই,আমি বিস্ময়ের সাথে বইটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে সে আমার থেকে এক হাত দূরে থাকা আসনটিতে বসলো।
আমাদের দোকানটা ছিলো ডিপার্টমেন্টাল স্টোর,চাল,ডাল,চিনি,লবন,সব ধরনের রিচার্জ বিকাশ,কসমেটিক্স, হরেক খাদ্যসামগ্রী দিয়ে ভরা থাকতো দোকান।
আমি অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে তার মুখের দিকে তাকালাম,সে ভারি বইখানা সামনে থাকা টেবিলে রাখলো,
আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো,খাওয়ার কি আছে?
আমি উলটো তাকে প্রশ্ন করলাম আপনি কি খাবেন ?
মেয়ে-আমার অনেক ক্ষুধা লেগেছে।
আমি-ও খাওয়ার মতো বিস্কুট আছে,কেক আছে,সফট ড্রিংক,কোল্ড ড্রিংক আছে।
মেয়ে-ওসব খেয়ে কি পেট ভরবে?
আমি-পরিমাণ মতো খেলে তো পেট ভরবে।
আর তাতেও যদি পেট না ভরে সামনের দিকে তিন চারটা পাশাপাশি হোটেল আছে,ওখানে গিয়ে খেতে পারেন।
মেয়েঃ ধুর হোটেলের পরিবেশ ভালো থাকে না।
আর হোটেলে কি কি রান্না হয়?
আমিঃ হোটেল হিসেবে আলাদা আলাদা রান্না হয় আর সেগুলো যে সবসময় পাওয়া যায় তাও নয়।
মেয়েঃথাক আমার ওতো কিছু জেনে লাভ নাই।
আপনি আমাকে খেতে ভালো এমন কোন বিস্কুট দিন,আর পেট যেনো ভরে....
আমি পেছন দিকটায় তাকিয়ে তাকে বললাম চকলেট বিস্কুট খাবেন?
সে কিছু বললো না,আমি পেছন থেকে প্যাকেটটা এনে তার সামনে দিলাম।
সে প্যাকেটটা প্রথমদিকে হালকা খোলার চেষ্টা করলো,এরপর এদিক ওদিক তাকিয়ে কেচি খুজে বের করে মাথাটা কেটে নিলো।
এরপর সে আমাকে বললো এক কাপ চা খাবো।
আমি-আমাদের দোকানে চা পাওয়া যায়না।
আমার কথা শেষ না হতেই অনেকটা সামনের দিকের চায়ের দোকানের ছেলেটা আমার দোকানে আসলো,
.
জিজ্ঞেস করলো-চায়ের কাপ আছে নাকি?
আমি মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম-কি চা খাবেন?
মেয়েটা-দুধ চা,সাথে লেবু আর দারচিনি মিক্স।
.
আমি একটু হেসে বললাম এখানে কাস্টমাইজ চা পাবেন না☺
মেয়েটা বললো কাস্টমাইজ চা আবার কি?
আমি চুপ।
.
মেয়েটা সুমনের দিকে তাকিয়ে বললো-ভালো করে একটা চা বানিয়ে নিয়ে আসেন।
.
সুমন চলে গেলো।
মেয়েটা পায়ের উপর পা তুলে পেপার খুলে পড়তে শুরু করলো,
.
আমি পাশ থেকে তাকে খানিকটা দেখছিলাম,কি ভালো দেখতে!
আর কি আলাদা একটা এটিটিউড☺
বেশ ভালো একটা সুগন্ধি ছড়াচ্ছে সে☺
বোধ হয় খুব দামী পারফিউম।
এরই মধ্যে চা চলে এলো,
.
জানিনা কেনো চায়ের দোকানদার এর ছেলে সুমন অন্য রকম একটা হাসি দিয়ে চা দিয়ে চলে গেলো,বুঝলাম না কিসের ইঙ্গিত😒
মেয়েটা খুব ধীরে ধীরে বিস্কুট চায়ে ডুবিয়ে ডুবিয়ে খেতে লাগলো,
মেয়েটা আমাকে জিজ্ঞেস করলো-দোকানটা কি আপনার?
আমি-না।আমি স্টুডেন্ট,বাবা জব করে সময় পায়না।
আমি ফ্রি আছি তাই টুকটাক বসা হয়।
মেয়েটা সব বুঝের মতো মাথা ঝাকিয়ে আবার চা ডুবিয়ে খাওয়া শুরু করলো,খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলো মিনারেল ওয়াটার আছে নাকি?
আমি মোটামুটি ঠান্ডা একটা মিনারেল ওয়াটার দিলাম।
খানিক সময় বাদে,মেয়েটা হাত ঝেড়ে পেছনের পকেট থেকে মানি ব্যাগ বের করলো,
আমি ভাবলাম মনে হয় টাকা দেবে,কিন্তু না মানিব্যাগ থেকে টিস্যু বের করে মুখ মুছে হাত মুখ মুছে নিলো সে,
আবার মানিব্যাগটা পকেটে রেখেও দিলো,
আমাকে অবাক করে দিয়ে মেয়েটা অর্ধেক বিস্কুট আর অর্ধেক পানি রেখে বেরিয়ে যাচ্ছিলো,
আমি পেছন থেকে তাকে ডাক দিলাম...
এক্সকিউজ মি......
মেয়েটা পিছে ফিরে তাকালো।
আমি-আপনার ৫৫ টাকা হয়েছে।
মেয়ে-কিসের টাকা?
আমি-বিস্কুট আর পানির বিল।
মেয়ে-এসব তো আপনি মেহমান হিসেবে খাইয়্যেছেন।
.
মেয়ের কথা শুনে আমি যেনো আকাশ থেকে পড়লাম,হাসবো নাকি কাদবো ভাবছিলাম😲
আমি-দেখুন আমি মশকারার পাত্র নই।
মেয়ে-সমস্যা নেই,মশকারার পাত্র না হলে হয়ে যাবেন।
আমি-মানে কি?
মেয়ে-আমাকে কি আপনাকে মেহমানের মতো লাগেনি?
আমি আর কোথাও না বসে,আপনার এখানে বসলাম, কিছু খাওয়ানো তো আপনার দায়ীত্ব ছিলো।
আমি-আমি তো নিজ থেকে আপনাকে কিছু খাওয়াই নি,
মেয়ে-আচ্ছা ঠিকাছে,কতো দিতে হবে?
আমি-৫৫ টাকা।
বিস্কুট ৪০,পানি ১৫।
মেয়ে-এইটুকু একটা বিস্কুট ৪০ টাকা?
আমি-এটা চকলেট বিস্কুট, তাছাড়া দাম লেখাই থাকে।
মেয়ে-কিন্তু আমি তো সব খাইনি,পানিও পুরাটা খাইনি।
.
আমি মনে মনে বললাম-আমি কি নিষেধ করছিলাম?
আমি বুদ্ধি খাটিয়ে বললাম-আপনি কতোটুকু খেয়েছেন তা তো আমার দেখার বিষয় নয়..
মেয়ে-আচ্ছা,৩০ টাকা রাখেন।যেহেতু অর্ধেক খেয়েছি☺
আমি-আমি তো চাইলে আরো বেশিও রাখতে পারতাম?
মেয়ে-তাহ কিভাবে রাখবেন,আমি Well Educated Person.
.
আমি মনে মনে ভাবলাম শিক্ষার সাথে বিস্কুট,পানির বিলের কি সম্পর্ক!
মেয়েটা আর কথা না বাড়িয়ে তার শিক্ষার % প্রমানের জন্য টাকা দিয়ে দিলো।
এরপর সে বইটা হাতে নিয়ে চলে গেলো,আমি হাফ ছেড়ে বাচলাম।
অনেকটা ক্ষুধা পেয়ে গেছিলো,বিস্কুট একটা হাতে নিয়েছি মাত্র,মেয়েটা কোথা থেকে দোকানের সামনে এসে হাজির।
বিস্ময়ের সাথে আমায় জিজ্ঞেস করলো-বিল দিলাম আমি আর বিস্কুট খাচ্ছেন আপনি?(খানিকটা রাগের সাথে বললো)
এদিকে দিন।
আমি বিস্কুট আর বোতল তার হাতে দিলাম।সে সেগুলো নিয়ে গেলো,
কোন এক কৌতূহলবশত আমি দোকান হতে মাথা বের করে তাকে দেখার চেষ্টা করলাম।একটা সামনেই সে রিক্সা ঠিক করছিলো।
সে যেখানে যাবে সেখানে শুধু মাত্র একটাই রিক্সা যাবে বলে সম্মতি জানালো।
তবে লোকটি বেশ বৃদ্ধ ছিলো।
মেয়েটি এবার যে কথাটি লোকটিকে বললো,তা তার প্রতি আমার ধারণাটা পুরোপুরি বদলে দিলো।
মেয়েটা রিক্সায় উঠে লোকটাকে জিজ্ঞেস করলো-দুপুরের খাবার খেয়েছেন?
বৃদ্ধ লোকটি একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে মাথা নাড়িয়ে বললো না।
মেয়েটা রিক্সা থেকে নামলো,রিক্সাওয়ালা জিজ্ঞেস করলো যাবেন না?
মেয়েটা-আপনার রিক্সায় আমি যাবো না।
বৃদ্ধ-কেন?
মেয়ে-আগে আপনি কিছু খেয়ে নেন,তারপর যাবো।
মেয়েটা বিস্কুটের প্যাকেটটা পাশে থাকা বসার স্থানে রাখলো,সাথে পানির বোতল।
মেয়ে-এগুলো খেয়ে নেন।
আমাদের এলাকায় গেলে আপনাকে বিরিয়ানি খাওয়াবো।
.
ক্ষনিকের জন্য নিজেকে উগান্ডার পাগল মনে হচ্ছিলো..
এতোক্ষন যে মাত্র কয়টা টাকার জন্য ইচিং বিচিং করছিলো আমার সাথে,তার মুখে এসব সুন্দর সুন্দর বুলি শুনে আমি শিহরিত😂
যাক মেয়েটা পাশে দাঁড়িয়ে রইলো,বৃদ্ধ লোকটি তৃপ্তির সাথে অবশিষ্ঠ খাবার খেয়ে নিলো।
খাওয়া শেষে মেয়েটি রিক্সায় উঠে বসলো,বৃদ্ধ লোকটির চোখে মুখে তখন কেমন তৃপ্তির ছাপ তা বলে বোঝাবার মতো নয়..
এসব মেয়েরা মোটামুটি আধুনিক ধাচের পোশাক পড়লেও এদের জন্য এক পক্ষ থেকে সংক্রিয়ভাবে দোয়া চলে যায়...
তারা চলে যাওয়ার পর,রিক্সাওয়ালাগুলো অনেক কথা বলাবলি করতে লাগলো..তার মধ্যে যে কথাটি স্পষ্ট শুনলাম,
তা হলো-পাগল।
.
আমার মুখে তখন এক মুচকি হাসি,মনে মনে বললাম খারাপ কি যদি পাগলেরাই সুস্থ মানুষের মতো আচরণ করে?
সমাজে এমন পাগলের বড়োই প্রয়োজন।
আমার আসনে ফিরে আসতেই চায়ের কাপ অপরিশোধিত বিলের কথা মনে করিয়ে দিলো।
যাক ৭ টাকার মেহমান ৭ হাজার কোটি টাকার ভালো লাগার যোগান দিয়ে গেলো☺☺☺☺
"৭টাকার মেহমান"
MJ Jony Chowdhury
Comments
Post a Comment