ভিন্ন দুটি দেহের ভিন্ন দুটি প্রাণের ভিন্ন দুটি মন যখন এক হয়ে যায়
ভালবাসার শুরুটা তখন থেকেই। হয়তো প্রথমে ভাল লাগা ছিল। তারও আগে ছিল
পরিচয়। আর এই পরিচয়ের আগে অচেনা দুটি প্রাণ। ভিন্ন দুটি দেহ।
ভালবাসার উৎপত্তিটা ঠিক কবে থেকে তার ধারনা পরিষ্কার ভাবে পাওয়া না গেলেও অনেকেই আদম-হাওয়ার ভালবাসাকেই সবচেয়ে প্রাচীন বলে মনে করেন। অবশ্য তা ধর্ম ভেদে ভিন্ন মত। বিতর্ক হতে পারে বলে সেদিকে আর কলম না চালানোটাই ভাল মনে করছি।
একটি বর্তণীতে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক দুটি আধানের একটির অনুপস্থিতি বর্তনীকে অসম্পূর্ণ করে। চুম্বকের দুটি বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। রাসায়নিক কোন বন্ধন গঠন করতে দুটি বিপরীত যোজ্যতার মৌলের উপস্থিতি প্রয়োজন। প্রকৃতির এই দৃষ্টান্ত আমাদের কিসের ইঙ্গিত দেয়?? ভালবাসা সংগঠিত হতে দুটি বিপরীত লিঙ্গের দেহের প্রয়োজন।
এই মুহূর্তে একটি কথা মনে পড়ছে। আমার এক বন্ধু সবসময় আমাকে বলত। “তুমি যাকে ভালবাস তাকে কখনোই বিয়ে করবে না। বরং যে তোমাকে ভালবাসে তাকেই বিয়ে কর। এতে সুখী হবে।“ কথাগুলো অবশ্য তার নিজের না। কোন এক বিখ্যাত জনের। কথাটার সাথে আমি কেন যেন একমত হতে পারিনি। ভাবতে গেলেই মাথার মধ্যে একটা প্রশ্ন চলে আসে। সবাই হাসবে বলে লজ্জায় কাউকে বলিনি। আচ্ছা যদি প্রত্যেকেই এই ধারনায় চলে তাহলে কি কখনো কারো বিয়ে-শাদি হবে? আর যদিও হয় হয়ত একাধিক। একটু ব্যাখ্যা করছি-
ধরা যাক A ভালবাসে B-কে। আবার B ভালবাসে C-কে। তাহলে B যদি সুখী হতে চায় তার উচিত হবে A-কে বিয়ে করা। আবার C যদি সুখী হতে চায় তারো উচিত হবে B-কে বিয়ে করা। তাহলে দেখা গেল B-এর বিয়ে হল একাধিক। আবার A যদি এই নীতি মেনে চলে তার বিয়ে না করাই উচিত হবে।
তবে ভালবাসা, বিয়ে-শাদি বা প্রেম-পিরিতি যাই হোক না কেন দুজনের মাঝে বিস্তর ফারাক অর্থাৎ পার্থক্য বেশি থাকার পক্ষে আমি। পার্থক্য হতে পারে বয়সে, হতে পারে অর্থে অথবা সামাজিক অবস্থানে। একটু রাসায়নিক ব্যাখ্যা দিলেই হয়তো কিছুটা হলেও পরিষ্কার বোঝা যেতে পারে।–
বিয়ে, ভালবাসা, প্রেম প্রতিটি একটি বন্ধন। রসায়নেও তেমনি কিছু বন্ধনের নাম পাওয়া যায়। তার মধ্যে আয়নিক বন্ধন ও সমযোজী বন্ধনই প্রধান। আয়নিক বন্ধনে আমরা দেখি যে দুটি মৌলের যোজ্যতার অনেক বেশি পার্থক্য থাকে। একটি মৌলের ইলেকট্রনের প্রাচুর্যতা থাকে। অপর মৌলের ইলেকট্রনের ঘাটতি থাকে। যার ইলেকট্রন অনেক বেশি থাকে সে অপর মৌলকে কিছু ইলেকট্রন দিয়ে কাছে টানে। আবার অপর মৌলটিও তার ঘাটতি পূরনের জন্য তার কাছে আসে বন্ধন সৃষ্টি করে। অপরপক্ষে সমযোজী বন্ধনে যোজ্যতার পার্থক্য থাকেনা। আবার এখানে হয়তো দুটিরই ইলেকট্ররনের প্রাচুর্যতা থাকে অথবা ইলেকট্রন ঘাটতি থাকে। অর্থাৎ তারা সমমানের বলেই সমযোজী বন্ধন বলা হয়। এবার একটু এদুটি বন্ধনের মধ্যে পার্থক্য বলা যাক। পার্থক্য হল আয়নিক বন্ধন দৃঢ় অর্থাৎ এ বন্ধন বেশ শক্তিশালী। সহজে ভাঙ্গে না। কিন্তু সমযোজী বন্ধন সহজেই ভেঙ্গে যায়।
এখন আর মৌল বা জড় কোন কিছু নিয়ে আর কথা না। তবে সেগুলোকে ভিত্তি করেই একটু অতি সংক্ষিপ্ত কিছু কথা না বললেই নয়। আমরা জীবনে যে বন্ধনেই আবদ্ধ হই না কেন আয়নিক এবং সমযোজী বন্ধনের এই ধারণার প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
রসহীন এই জীবনে কাঠখট্টা গল্পে কি আর মন ভরে? তাই একটি রসাল গল্পের কথা না বললেই নয়। যদিও এতক্ষণের বকবকের সাথে এর তেমন কোন মিল নেই।
এক যুবক তার জীবন সঙ্গী হিসেবে একজনকে পছন্দ করল। সে তার মাকে তার হবু বউ দেখানোর কথা বলে। কিন্তু একটু ভিন্ন পন্থায়। সে একটি খেলা খেলতে চায়। সে সাথে করে তিনটি মেয়ে নিয়ে আসবে। আর তার মাকে বলতে হবে কোনটি তার ছেলের হবু বউ। ছেলের খুশির কথা ভেবে মা রাজী হয়ে গেল।
পরদিন বিকেলে ছেলে তিনটি মেয়ে সাথে করে বাড়িতে ঢুকল। তিন মেয়েরই একই কাপড়। লম্বায়ও প্রায় সমান। সবারই কথা বলার ধরনও একই। মাকে ডেকে ছেলে বলল, “মা তাহলে এখন বল কোনটা তোমার ছেলের বউ হতে যাচ্ছে?” মা কোন প্রকার চিন্তা না করেই বলে দিল, “মাঝের জন।“ ছেলেতো অবাক চোখে মায়ের দিকে তাকায়। কৌতুহল চেপে রাখতে না পেরে মাকে প্রশ্ন করেই ফেলল, “মা, তুমি কি করে নিশ্চিত হলে যে মাঝের জনকেই আমি পছন্দ করেছি।?” মা হেসে উত্তর দেয়, “এটাতো অনেক সহজ। কারন তিন জনের মধ্যে মাঝের জনকেই আমার পছন্দ হয়নি।
ভালবাসার উৎপত্তিটা ঠিক কবে থেকে তার ধারনা পরিষ্কার ভাবে পাওয়া না গেলেও অনেকেই আদম-হাওয়ার ভালবাসাকেই সবচেয়ে প্রাচীন বলে মনে করেন। অবশ্য তা ধর্ম ভেদে ভিন্ন মত। বিতর্ক হতে পারে বলে সেদিকে আর কলম না চালানোটাই ভাল মনে করছি।
একটি বর্তণীতে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক দুটি আধানের একটির অনুপস্থিতি বর্তনীকে অসম্পূর্ণ করে। চুম্বকের দুটি বিপরীত মেরু পরস্পরকে আকর্ষণ করে। রাসায়নিক কোন বন্ধন গঠন করতে দুটি বিপরীত যোজ্যতার মৌলের উপস্থিতি প্রয়োজন। প্রকৃতির এই দৃষ্টান্ত আমাদের কিসের ইঙ্গিত দেয়?? ভালবাসা সংগঠিত হতে দুটি বিপরীত লিঙ্গের দেহের প্রয়োজন।
এই মুহূর্তে একটি কথা মনে পড়ছে। আমার এক বন্ধু সবসময় আমাকে বলত। “তুমি যাকে ভালবাস তাকে কখনোই বিয়ে করবে না। বরং যে তোমাকে ভালবাসে তাকেই বিয়ে কর। এতে সুখী হবে।“ কথাগুলো অবশ্য তার নিজের না। কোন এক বিখ্যাত জনের। কথাটার সাথে আমি কেন যেন একমত হতে পারিনি। ভাবতে গেলেই মাথার মধ্যে একটা প্রশ্ন চলে আসে। সবাই হাসবে বলে লজ্জায় কাউকে বলিনি। আচ্ছা যদি প্রত্যেকেই এই ধারনায় চলে তাহলে কি কখনো কারো বিয়ে-শাদি হবে? আর যদিও হয় হয়ত একাধিক। একটু ব্যাখ্যা করছি-
ধরা যাক A ভালবাসে B-কে। আবার B ভালবাসে C-কে। তাহলে B যদি সুখী হতে চায় তার উচিত হবে A-কে বিয়ে করা। আবার C যদি সুখী হতে চায় তারো উচিত হবে B-কে বিয়ে করা। তাহলে দেখা গেল B-এর বিয়ে হল একাধিক। আবার A যদি এই নীতি মেনে চলে তার বিয়ে না করাই উচিত হবে।
তবে ভালবাসা, বিয়ে-শাদি বা প্রেম-পিরিতি যাই হোক না কেন দুজনের মাঝে বিস্তর ফারাক অর্থাৎ পার্থক্য বেশি থাকার পক্ষে আমি। পার্থক্য হতে পারে বয়সে, হতে পারে অর্থে অথবা সামাজিক অবস্থানে। একটু রাসায়নিক ব্যাখ্যা দিলেই হয়তো কিছুটা হলেও পরিষ্কার বোঝা যেতে পারে।–
বিয়ে, ভালবাসা, প্রেম প্রতিটি একটি বন্ধন। রসায়নেও তেমনি কিছু বন্ধনের নাম পাওয়া যায়। তার মধ্যে আয়নিক বন্ধন ও সমযোজী বন্ধনই প্রধান। আয়নিক বন্ধনে আমরা দেখি যে দুটি মৌলের যোজ্যতার অনেক বেশি পার্থক্য থাকে। একটি মৌলের ইলেকট্রনের প্রাচুর্যতা থাকে। অপর মৌলের ইলেকট্রনের ঘাটতি থাকে। যার ইলেকট্রন অনেক বেশি থাকে সে অপর মৌলকে কিছু ইলেকট্রন দিয়ে কাছে টানে। আবার অপর মৌলটিও তার ঘাটতি পূরনের জন্য তার কাছে আসে বন্ধন সৃষ্টি করে। অপরপক্ষে সমযোজী বন্ধনে যোজ্যতার পার্থক্য থাকেনা। আবার এখানে হয়তো দুটিরই ইলেকট্ররনের প্রাচুর্যতা থাকে অথবা ইলেকট্রন ঘাটতি থাকে। অর্থাৎ তারা সমমানের বলেই সমযোজী বন্ধন বলা হয়। এবার একটু এদুটি বন্ধনের মধ্যে পার্থক্য বলা যাক। পার্থক্য হল আয়নিক বন্ধন দৃঢ় অর্থাৎ এ বন্ধন বেশ শক্তিশালী। সহজে ভাঙ্গে না। কিন্তু সমযোজী বন্ধন সহজেই ভেঙ্গে যায়।
এখন আর মৌল বা জড় কোন কিছু নিয়ে আর কথা না। তবে সেগুলোকে ভিত্তি করেই একটু অতি সংক্ষিপ্ত কিছু কথা না বললেই নয়। আমরা জীবনে যে বন্ধনেই আবদ্ধ হই না কেন আয়নিক এবং সমযোজী বন্ধনের এই ধারণার প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।
রসহীন এই জীবনে কাঠখট্টা গল্পে কি আর মন ভরে? তাই একটি রসাল গল্পের কথা না বললেই নয়। যদিও এতক্ষণের বকবকের সাথে এর তেমন কোন মিল নেই।
এক যুবক তার জীবন সঙ্গী হিসেবে একজনকে পছন্দ করল। সে তার মাকে তার হবু বউ দেখানোর কথা বলে। কিন্তু একটু ভিন্ন পন্থায়। সে একটি খেলা খেলতে চায়। সে সাথে করে তিনটি মেয়ে নিয়ে আসবে। আর তার মাকে বলতে হবে কোনটি তার ছেলের হবু বউ। ছেলের খুশির কথা ভেবে মা রাজী হয়ে গেল।
পরদিন বিকেলে ছেলে তিনটি মেয়ে সাথে করে বাড়িতে ঢুকল। তিন মেয়েরই একই কাপড়। লম্বায়ও প্রায় সমান। সবারই কথা বলার ধরনও একই। মাকে ডেকে ছেলে বলল, “মা তাহলে এখন বল কোনটা তোমার ছেলের বউ হতে যাচ্ছে?” মা কোন প্রকার চিন্তা না করেই বলে দিল, “মাঝের জন।“ ছেলেতো অবাক চোখে মায়ের দিকে তাকায়। কৌতুহল চেপে রাখতে না পেরে মাকে প্রশ্ন করেই ফেলল, “মা, তুমি কি করে নিশ্চিত হলে যে মাঝের জনকেই আমি পছন্দ করেছি।?” মা হেসে উত্তর দেয়, “এটাতো অনেক সহজ। কারন তিন জনের মধ্যে মাঝের জনকেই আমার পছন্দ হয়নি।
Comments
Post a Comment